
সম্মানিত পাঠক! আসুন, আজ আপনাদের এমন একটি ঘটনার কথা শোনাই, যা হার মানাবে হলিউডের যেকোনো থ্রিলার সিনেমাকেও। ঘটনাটি আকাশে ঘটে যাওয়া এক শ্বাসরুদ্ধকর বিম|ন ছিনত|ইয়ের চেষ্টা নিয়ে। চলুন শুরু থেকেই পুরো বিষয়টা একটু বোঝার চেষ্টা করি-
কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে?
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইস/র|য়েলের তেল আ/বিবের দিকে নির্বিঘ্নেই উড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আকাশে হঠাৎ করেই বিম|নের ককপিটের ভেতর শুরু হয় এক মরণপণ লড়|ই। বিম|নের ওমানি কো-পাইলট হুমাম আল-হুমামি হঠাৎ করেই বিম|নের প্রধান পাইলটের ওপর বীরোচিত হ|মলা চালান। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল বিম|নের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া এবং যাত্রীবাহী বিম|নটিকে কোন ই/হু/দী অর্থনৈতিক বহুতল বিল্ডিং এ ভূপ|তিত করা।
তবে তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হননি। বিম|নে থাকা ক্রু সদস্য এবং অতিরিক্ত হিসেবে থাকা আরও দুজন পাইলট মিলে হুমামকে শক্তভাবে জাপটে ধরে এবং বিম|নের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। এরপর ফ্লাইটটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানেই হুমামকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আশ-শামসি গত শনিবার নিশ্চিত করেছেন যে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত স/ন্ত্র|সী হ|মলার চেষ্টা। তদন্তে দেখা গেছে, ওই কো-পাইলট ককপিটে রাখা ইমার্জেন্সি এক্স বা জরুরি কুঠার ব্যবহার করে ক্যাপ্টেনের ওপর হ|মলা চালিয়েছিলেন। ইস/র|য়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতা/নিয়|হুও ঘটনাটিকে একটি 'স/ন্ত্র|সী কর্মকাণ্ড' বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, হ|মলাকারীর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বিম|নে থাকা সবাইকে নিয়ে আছড়ে পড়া।
ভারতীয় ক্যাপ্টেনের জবানে ককপিটের ভেতরে কী ঘটেছিল?
বিম|নের মূল পাইলট ছিলেন ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিথ মাতশশার। ইস/র|য়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতা/নিয়|হুর সাথে এক ফোনালাপে সে সেই 'ভয়ং/কর' মুহূর্তগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
ক্যাপ্টেন স্মিথ জানান, কো-পাইলট হুমাম তাঁর কাছে নামাজ পড়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইটগুলোতে মুসলিম ক্রুরা ফ্লাইটের ভেতর অনেক সময়ই নামাজ আদায় করে থাকেন, তাই পাইলটদের কাছে এটি খুবই স্বাভাবিক ও নিয়মিত একটি দৃশ্য। স্মিথ ভেবেছিলেন এটি সাধারণ একটি ব্যাপার। তিনি সামনের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন, পেছনে ফিরে তাকাননি। কিন্তু ঠিক ৪ থেকে ৫ মিনিট পর হঠাৎ তাঁর মাথার পেছনে সজোরে একটি আঘ|ত লাগে।
স্মিথ জানান, তিনি হ|মলাকারীকে থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একের পর এক কুঠারের আঘ|তের কারণে তাঁর চোখের দৃষ্টি একেবারে ঝাপসা হয়ে আসে। তিনি প্রায় অন্ধ হওয়ার উপক্রম হন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি টের পান যে বিম|নটি প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে।
নিজের জীবনের শেষ শক্তিটুকু একত্র করে ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একবার খুলেও ফেলেন, কিন্তু হুমাম সেটি আবার আটকে দেয়। ক্যাপ্টেনের মনে হলো লড়|ই করার এটাই শেষ সুযোগ। তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে দরজাটির দিকে ছুটে যান এবং তা খুলতে সক্ষম হন। দরজা খোলার সাথে সাথেই বাইরে অপেক্ষমান ক্রুরা ককপিটে ঢুকে পড়েন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। স্মিথ তাঁর কথা শেষ করেন এই বলে, "আর বাকি গল্প তো আপনাদের জানাই আছে।"
কে এই হুমাম আল-হুমামি?
স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে, বিম|নের মতো এত সংবেদনশীল জায়গায় এমন একজন হ|মলাকারী পাইলট কীভাবে পৌঁছালেন? ম|র্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাঁর সম্পর্কে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
হুমাম আল-হুমামি একজন ওমানি নাগরিক। তবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই এক ওমানি বাবা ও সিরীয় মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের একটা বেশ দীর্ঘ সময় তাঁর কেটেছে এই আমিরাতেই। ২৯ বছর বয়সী এই তরুণের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি 'ওমান এয়ার'-এ দীর্ঘ সাত বছর কাজ করেছেন।
কিন্তু তাঁর অতীত মোটেও 'বিপদমুক্ত' ছিল না। ওমান এয়ারে কাজ করার সময় তাঁর কাছে জি/হ|দি নথিপত্র পাওয়া যায় এবং তাঁর মধ্যে জি/হ|দি মতাদর্শ গ্রহণের প্রবল আশ/ঙ্কা দেখা দেয়। এর ফলে তাঁকে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং ফ্লাইং ডিউটি থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক ডেস্কে বদলি করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
ওমান এয়ার ছাড়ার পর তিনি সিরিয়াতে সফর করেন এবং এরপর চলে যান মরক্কোতে। ২০২৫ সালের জুনে তিনি 'রয়্যাল এয়ার মারোক'-এ যোগ দেন। সেখানে নিয়োগের অংশ হিসেবে তিন মাসের একটি তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর চাকরির আবেদন তারা গ্রহণ করেনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সেখান থেকেও বিদায় নেন।
যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি (BNU) জানিয়েছে, হুমাম ২০২৩ সালে তাদের সেখান থেকে এভিয়েশন বা বিম|ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিন বছর মেয়াদি একটি দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্পষ্ট করেছে যে, সেখানে তিনি বিম|ন চালানোর কোনো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেননি।
এত কিছুর পরও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ফ্লাইদুবাই তাঁকে নিয়োগ দেয়। সেখানে তিনি প্রায় আট মাস কাজ করেন এবং এই সময়ের মধ্যে কয়েক ডজন বার ইস/র|য়েলে ফ্লাইট পরিচালনা করেন। ঘটনার কয়েকদিন আগেও তিনি ইস/র|য়েল ঘুরে এসেছিলেন।
টুইন টাও/য়ার স্টাইলে ইস/র|ইলে হ|মলার পরিকল্পনা
প্রিয় পাঠক, ইস/র|য়েলি পত্রিকা 'ইয়েদিওত আহারোনত' সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক শীর্ষ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই ওমানি কো-পাইলট হুমাম আল-হুমামি এখন আমিরাতে মৃ/ত্যুদ/ণ্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য ইস/র|ইলপন্থী আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার পথেই এগোচ্ছে। যদিও এই ঘটনায় কেউ নিহ/ত হয়নি, তবুও এমন একটি কাজের জন্য তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
ঘটনার গভীরতা বুঝতে পেরে তদন্তে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের বাঘা বাঘা গো(য়ন্দা সংস্থা। ইস/র|য়েলি গো(য়ন্দা সংস্থা 'মে|সাদ' এবং তাদের এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা গোপনে আবুধাবিতে পৌঁছেছেন। তাঁদের সাথে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরব ও ওমানের শীর্ষ গো(য়ন্দা কর্মকর্তারা এবং অন্তত দুজন ম|র্কিন গো(য়ন্দা প্রতিনিধি বা সিঅ|ইএ কর্মকর্তা। বিদেশি এই সংস্থাগুলো সরাসরি হুমামকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কি না তা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, ইস/র|য়েলি প্রতিনিধিরা যে জিজ্ঞাসাবাদে থাকছেন, সেটি পত্রিকাটির খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হলো, এটি কতটুকু পূর্বপরিকল্পিত ছিল তা বের করা। যাচাই-বাছাই করে যে তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। ২৯ বছর বয়সী হুমামের উদ্দেশ্য কেবল এলোপাতাড়িভাবে বিম|নটি বিধ্বস্ত করা ছিল না। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে বিম|নের নিয়ন্ত্রণ ছি/নিয়ে নিয়ে সেটিকে সোজা ইস/র|য়েলের কোনো বহুতল ভবনে আছড়ে ফেলা। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিউই/য়র্কের টুইন টাও/য়ারে।
তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য বলছে, হুমামের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল তেল আ/বিবের বিখ্যাত 'আজরেইলি' (Azrieli) টাও/য়ার। আজরেইলি টাও/য়ার হলো তেল আ/বিবের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অত্যন্ত পরিচিত এবং ব্যস্ত একটি আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন কমপ্লেক্স, যেখানে আঘ|ত হানলে ব্যাপক প্র|ণহানির আশ/ঙ্কা ছিল।
হুমাম 'ফ্লাইদুবাই'-তে কাজ করছিলেন প্রায় আট মাস ধরে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কয়েক ডজন বার ইস/র|য়েল ভ্রমণ করেছেন। এমনকি ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেও তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তাই তদন্তকারীরা এখন গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন যে, ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই শ্বাসরুদ্ধকর ছক তিনি আগে থেকেই কষেছিলেন কি না।
আল-ক|(য়দ|র নতুন হুঁশিয়ারি?
এরই মধ্যে ম|র্কিন পত্রিকা 'নিউই/য়র্ক পোস্ট' আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। তারা জানিয়েছে, আল-ক|(য়দ| তাদের সমর্থকদের প্রতি ঠিক এভাবেই বিম|নে ভ্রমণরত আ(মরিকান ও ইস/র|য়েলিদের ওপর হ|মলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। গত জুলাই মাসে আল-ক|(য়দ| সমর্থকদের পরিচালিত 'আল-বায়ান' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে।
গত শুক্রবার এই পত্রিকার সর্বশেষ সংখ্যায় ১১ সেপ্টেম্বরের হ|মলার পাশাপাশি ফ্লাইদুবাইয়ের এই বিম|ন ছিনত|ই চেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। সেখানে টুইন টাও/য়ারে বিম|ন আছড়ে পড়ার ছবির পাশেই ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার ইঙ্গিতবাহী একটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
নিবন্ধটিতে জ|য়নবাদী ও আ(মরিকানদের বহনকারী বিম|নগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যু/দ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, আ(মরিকা ও জ|য়নবাদীদের শত্রুর সংখ্যা এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি এবং খুব শিগগিরই আ(মরিকার মতো এই অশুভ সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পত/ন ঘটবে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপারটি ঘটে বিম|ন ছিনত|ইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর। হুমাম আল-হুমামি তখন পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে, আর ঠিক তখনই তাঁর 'লিংকডইন' ও 'ইনস্টাগ্রাম' অ্যাকাউন্টে একের পর এক পোস্ট আসতে থাকে। সিএনএন জানিয়েছে, এই পোস্টগুলো অন্য কেউ করেছিল নাকি আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশের জন্য শিডিউল করে রাখা ছিল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে পরে অ্যাকাউন্ট দুটি মুছে ফেলা হয়।
এই পোস্টগুলোর মধ্যে একটি ভিডিও ছিল, যা দুবাই আন্তর্জাতিক বিম|নবন্দরে একটি বোয়িং 737 বিম|নের ককপিট থেকে ধারণ করা। ভিডিওতে খুব কাছ দিয়ে ইস/র|য়েলি বিম|ন সংস্থা 'এল আল' এবং 'আর্কিয়া'-এর বিম|ন উড়ে যেতে দেখা যায়। সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে, ককপিটের স্ক্রিনে প্রদর্শিত OMA624 ফ্লাইট নম্বর এবং ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখটি হুমামের আগের কর্মস্থল 'ওমান এয়ার'-এর একটি ফ্লাইটের সাথে মিলে যায়, যা সাধারণত দুবাই ও মাসকাটের মধ্যে চলাচল করত।
ভিডিওটির শেষে আল-ক|(য়দ|র অন্যতম নেতৃত্ব শ|ইখ আই/মান আয-যাওয়া|হিরির একটি ছবি ভেসে ওঠে। শ|ইখ উস|ম| বিন ল|(দনের শাহ|দাতের পর তিনিই সংগঠনটির হাল ধরেছিলেন। শ|ইখ যাওয়া|হিরির ছবির পাশেই ছিল হুমাম খলিল আবু মুলাল আল-বালা|উই নামের আরেক মু/জ|হিদের ছবি। হুমাম আল-হুমামির প্রকাশিত দ্বিতীয় ভিডিওটি ছিল এআই দিয়ে তৈরি, যেখানে আকাশ থেকে ইসলামের তিনটি পবিত্রতম স্থান দেখানো হয়েছে।
হুমাম আল-বালা|উই প্রসঙ্গ: এক যথোপযুক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
এখন প্রশ্ন হলো, শ|ইখ যাওয়া|হিরির পাশে থাকা ওই হুমাম আল-বালা|উই আসলে কে?
'স/ন্ত্র|সবাদ' বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইভান কোলম্যান এই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই কন্টেন্টগুলো সত্যি হলে হুমাম আল-হুমামি অ|ইএস-এর সমর্থক নন, বরং তিনি আল-ক|(য়দ|র আদর্শে বিশ্বাসী। কোলম্যান জানান, হুমাম আল-বালা|উই আল-ক|(য়দ|র ভেতরে 'আবু দুজানা আল-খোর|সানি' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি পেশায় ছিলেন একজন চিকিৎসক। ইন্টারনেটে জি/হ|দি ফোরামের মাধ্যমে তাঁর কাজ শুরু হলেও একপর্যায়ে তিনি জর্ডানের গো(য়ন্দা সংস্থা এবং ম|র্কিন সিঅ|ইএ-এর 'ডাবল এ(জন্ট' হিসেবে কাজ শুরু করেন।
কিন্তু ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে ঘটে যায় এক ভয়|বহ ঘটনা। সেখানে অবস্থিত ক্যাম্প চ্যাপম্যান ঘাঁটিতে সিঅ|ইএ-এর একটি গোপন স্থাপনায় আল-বালা|উই আত্মঘ|তী বি(স্ফ|রণ ঘটান। ওই হ|মলায় মোট ৯ জন নিহ/ত হন, যার মধ্যে ৭ জনই ছিলেন সিঅ|ইএ কর্মকর্তা।
নিহ/তদের মধ্যে ছিলেন জেনিফার ম্যাথিউজ, যিনি আফগানিস্তানে সিঅ|ইএর স্টেশনপ্রধান এবং উস|ম| বিন ল|(দন ও আল-ক|(য়দ|র নেতাদের অনুসরণে সংস্থাটির অন্যতম প্রধান বিশেষজ্ঞ ছিলেন। আরও নিহ/ত হন জর্ডানের গো(য়ন্দা কর্মকর্তা শরিফ আলি বিন যায়েদ, যিনি আল-বালা|উইর সাথে যোগাযোগের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া একজন আফগান ব্যক্তিও নিহ/ত হন, যিনি সিঅ|ইএর হয়ে কাজ করতেন এবং ঘাঁটির বাইরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
কোলম্যানের মতে, ভিডিওতে আল-বালা|উইর ছবি ব্যবহারের একটি বিশেষ তাৎপর্য আছে। আল-বালা|উই এবং ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট হুমাম আল-হুমামির মধ্যে অদ্ভুত একটি মিল রয়েছে। দুজনেই অত্যন্ত সফল পেশাজীবী (একজন চিকিৎসক, অন্যজন পাইলট) এবং কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে তারা এমন ভয়ং/কর কোনো আত্মঘ|তী হ|মলা চালাতে পারেন।
ইস/র|য়েলি 'চ্যানেল ১২' তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, হুমাম আল-হুমামিকে আল-ক|(য়দ|র আদর্শে মগজধোলাই করা হয়েছিল। ম|র্কিন ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে মিলে প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করছে।
এক '(ল|ন উলফ'-এর স্বীকারোক্তি
সম্মানিত পাঠক, ইস/র|য়েলি পত্রিকা 'ইয়েদিওত আহারোনত' ম|র্কিন পত্রিকা 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০১১ সালে সিরিয়ায় যখন গৃহযু/দ্ধ চলছিল, হুমাম তখন সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ধারণা করা হয়, ঠিক সেই সময়েই তাঁর ভেতরে 'ক/ট্ট/রপন্থা'র বীজ রোপিত হয়েছিল।
এরপর ব্রিটিশ পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান' জানায়, তিনি পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেয়েছিলেন। সিডনিভিত্তিক একটি পত্রিকার তথ্যমতে, ভিসা বাতিল হওয়ার আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে টানা তিন বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা করেছিলেন।
পড়াশোনার পাট চুকিয়ে তিনি পাইলট হিসেবে যোগ দেন 'ওমান এয়ার'-এ। কিন্তু ২০২৪ সালে তাঁর কাছে জি/হ|দি কন্টেন্ট পাওয়া গেলে তাঁকে প্রথমে বরখাস্ত এবং প্রায় এক বছর পর পুরোপুরি চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তিনি 'ফ্লাইদুবাই'-তে যোগ দেন।
ম|র্কিন সংবাদমাধ্যম 'এবিসি নিউজ' জানিয়েছে, হুমাম এখন আমিরাতি তদন্তকারীদের সাথে বেশ সহযোগিতা করছেন। তিনি ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন যে, বিম|নটি বিধ্বস্ত করাই ছিল তাঁর মূল পরিকল্পনা।
এদিকে, ইস/র|য়েলি পত্রিকাগুলোও আল-ক|(য়দ|র সমর্থকদের ওই আহ্বানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা বলছে, 'আল-বায়ান' পত্রিকায় ১১ এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের কথা উল্লেখ করে আ(মরিকান ও ইস/র|য়েলিদের বহনকারী বিম|নগুলোতে হ|মলার ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখানে এমন কথাও বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহতে বিশ্বাস করে না, তার দ্বারা পরিচালিত কোনো হ|মলাও নাকি ইসলামের উপকারে আসতে পারে।
তবে আল-ক|(য়দ| সমর্থকরা হুমামের প্রশংসা করলেও তিনি যে সরাসরি আল-ক|(য়দ|র নির্দেশে বা বাইরের কোনো গোষ্ঠীর মদদে এই কাজ করেছেন, এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ইস/র|য়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, হুমাম নিজেই 'ক/ট্ট/রপন্থায়' উদ্বুদ্ধ হয়ে একাই এই হ|মলার ছক কষেছিলেন, যাকে গো(য়ন্দা পরিভাষায় '(ল|ন উলফ' বা একাকী হ|মলাকারী বলা হয়। তবে ইস/র|য়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতা/নিয়|হু এবং সাবেক ম|র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র|ম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওই কো-পাইলট হয়তো অন্যদের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পেয়েছিলেন।
ইস/র|য়েলি গো(য়ন্দা ব্যর্থতা এবং একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর পালা
পুরো ঘটনাটির পর ইস/র|য়েলের পত্রিকা 'ইয়েদিওত আহারোনত' একটি বিশাল প্রশ্ন সামনে এনেছে। যেই ওমানি পাইলটের অতীত রেকর্ডে এতগুলো সতর্কসংকেত ছিল, তাঁকে কীভাবে ইস/র|য়েলে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলো? এই চরম প্রশ্নের মুখে পড়ে ইস/র|য়েলে আসা বিদেশি ফ্লাইটের ক্রুদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো এখন একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নেতা/নিয়|হু নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের ফাঁকফোকর ছিল।
ইস/র|ইলের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, গত প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশি ফ্লাইটে ইস/র|য়েলে আসা ক্রু সদস্যদের কোনো তথ্যই নাকি সংগ্রহ বা যাচাই করা হয়নি। পরিবহন মন্ত্রী মিরি রেগেভ এই চরম ব্যর্থতার জন্য সরাসরি গো(য়ন্দা সংস্থা 'মে|সাদ' এবং ইস/র|য়েলি কর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন।
ইস/র|য়েলের বেসামরিক বিম|ন চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAA) অবস্থাও তথৈবচ। সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় তারা নিশ্চিত করে বলতেই পারেনি যে, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলো থেকে আসা ঠিক কতজন পাইলট এর আগে ইস/র|য়েলে অবতরণ করেছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করার সময় সাধারণ যাত্রীরা কীভাবে নিজেদের নিরাপদ ভাববে, এমন প্রশ্নেরও কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারেনি।
কর্তৃপক্ষ সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছে, তারা ধারণা করছে এমন কেউ আসেনি, তবে তারা শতভাগ নিশ্চিত নয়। তাদের ভাষ্যমতে, শতভাগ নিরাপত্তা বলে আসলে কিছু নেই, আর সবকিছু তখনই পুরোপুরি নিরাপদ হবে, যখন বিম|ন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারা মূলত স্থানীয় নিরাপত্তার ওপরই নির্ভর করে থাকে।
সম্মানিত পাঠক!
'ইয়েদিওত আহারোনত' তাদের প্রতিবেদনের একেবারে শেষে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, বিম|ন ছিনত|ই চেষ্টার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও ইস/র|য়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো এই চরম নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেনি। এমনকি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাও তারা দেয়নি।
একটি উড়ন্ত বিম|নে ককপিটের ভেতরের লড়|ই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গো(য়ন্দা সংস্থাগুলোর দৌড়ঝাঁপ এবং ইস/র|য়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই চরম লেজেগোবরে অবস্থা সব মিলিয়ে ঘটনাটি সত্যিই এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়। আমরাও অপেক্ষায় আছি, ইস/র|ইলের আকাশে হয়তো আবারো কোন আবাবিল আঘ|ত হানবে।
সতর্কবার্তা: এই লেখাটি মূলত আপনাদের তথ্যগত অবগতির উদ্দেশ্যে অনুবাদ করা হলো। সুতরাং, এখানে প্রদত্ত বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত বা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরে না নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, রচনায় উপস্থাপিত যাবতীয় চিন্তাধারা ও বক্তব্যের দায়ভার একান্তই মূল লেখকের নিজস্ব। তাঁর সকল মতাদর্শ বা বিশ্লেষণের সাথে আমাদের পুরোপুরি মতৈক্য থাকতে হবে—এমনটি কোনোভাবেই অপরিহার্য নয়। তাদের চিন্তাধারা আমাদের জানা দরকার, আর মূলত এ কারণেই আমাদের এই আর্টিকেল অনুবাদ করা হয়েছে। -অনুবাদক

