ইদানিং অনেকেই আক্ষেপ করে বলছেন- এত রক্ত দিয়ে স্বৈরাচার হটিয়ে কি লাভ হল, আবার তো সেই পুরনো বন্দোবস্তই ফিরে এসেছে। ঘুষ, দুর্নীতি, বিচারিক জুলুম, খুন, নৈরাজ্য, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, সিন্ডিকেট সব তো আগের মতই আছে।
শহীদদের রক্ত কি তবে বৃথা গেল?

এই প্রশ্নটাই আসলে অবান্তর, কারণ আমরা শুধু স্বৈরাচার হটিয়েছি, কিন্তু যেই সিস্টেম স্বৈরাচার তৈরি করেছে, স্বৈরাচারকে টিকিয়ে রেখেছে সেই সিস্টেম চেঞ্জ করিনি।

আমরা শুধু গাড়ির ড্রাইভার (হাসিনাকে) সরিয়েছি, সরিয়ে ভেবেছি সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু যেই ইঞ্জিনের সহায়তায় হাসিনা স্বৈরাচার হয়েছে সেই ইঞ্জিন অর্থাৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও আমলাতন্ত্রের গায়ে একটুও হাত দেইনি। সেটিকে আগের অবস্থাতেই রেখে দিয়েছি।
অথচ আমাদের মনে রাখা দরকার ছিল, গাড়ির ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকলে শুধু ড্রাইভার বদলালে সমস্যার সমাধান হয় না; আগে ইঞ্জিন ঠিক করতে হয়।
তাই আমাদের দরকার হল ইঞ্জিন তথা পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করা। কয়দিন পর পর রক্ত দিয়ে শুধু ড্রাইভার বদলালে অবস্থা কোনদিন বদলাবেনা। রক্ত যেহেতু দিতেই হবে পুরো কাঠামো বদলানোর জন্য দিলেই কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।